ব্যাক্তিগঠন, ইসলামী শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে আসুন..

উন্নত ব্যক্তিসত্তা ও জাতি গঠনের অঙ্গিকার নিয়ে ১৯৯২ সালের ২৪ জানুয়ারি ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ তার যাত্রা শুরু করে। ছাত্র জমিয়তের মূখ্য কর্মসূচি হচ্ছে সঠিক তত্ত্বাবধান  ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জন্য একদল দক্ষ কর্মী গঠন করা।

ব্যক্তিগঠন

কুরআন, হাদীস ও সমসায়িক বিষয়ে পাঠদান। খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শ অনুসরণে একটি সুন্দর, চিন্তাশীল ব্যক্তিস্বত্তা তৈরি করতে কাজ করছে ছাত্র জমিয়ত।

ইসলামী শিক্ষা

যে শিক্ষার আবির্ভাবে এক অন্ধকার সময় হয়ে গিয়েছিলো আলোকোজ্জ্বল। যে আলো প্রজ্জ্বলনে আলোকিত হয়েছিলেন আবুবকর, ওমর, উসমান ও আলী (রা.)-এর মতো সাহাবীরা। সেই শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চায় ছাত্র জমিয়ত।

সমাজব্যবস্থা

ভঙ্গুর এই সমাজকে ভেঙে একটি সুন্দর, সাম্য-সম্প্রীতি তথা ইনসাফভিত্তিক ইসলামী সমাজ গঠনের জন্য কাজ করছে ছাত্র জমিয়ত।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দিন

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

গত আড়াই দশক যাবত ছাত্র জমিয়তের ব্যানারে এদেশের ছাত্রসমাজ যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তার প্রতিদান একদিন আসবেই। সেই কাঙ্ক্ষিত সোনালী দিনের জন্য আমাদেরকে আরো কাজ করে যেতে হবে।
 

মাওলানা সাইফুর রহমান

সভাপতি

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

পরিচিতি

মুফতি এখলাছুর রহমান রিয়াদ

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

পরিচিতি

হুজাইফা ইবনে ওমর

সাধারণ সম্পাদক

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

পরিচিতি

ছাত্র জমিয়তের কর্মসূচি

ছাত্র জমিয়তের মৌলিক কর্মসূচি পাঁচটি

একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পাশ্চাত্য সভ্যতার আগ্রাসনের ফলে আমাদের সমাজ আজ যেভাবে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন পিষ্ট হচ্ছে; আদর্শহীনতা আপোষকামিতা ও নৈতিক অবক্ষয় যেভাবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে, তদুপরি  ইসলামের ছদ্মাবরণে বাতিল শক্তিগুলো তাদের নখরথাবা বিস্তার করে চলছে। তথাকথিত ছাত্র রাজনীতি যে গতিতে ছাত্রসমাজকে মৌলিক দায়িত্ব, অবস্থান থেকে স্খলিত করছে, এতে সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে এ আওয়াজ তুলা- ‘এ সমাজ ভাঙতে হবে, নতুন সমাজ গড়তে হবে’।
এ কথা সকলেরই জানা যে, বহু সংখ্যক ব্যক্তির সমষ্টিগত নাম হচ্ছে সমাজ। ব্যক্তি সমাজের একক। সমাজ শুদ্ধ করতে হলে প্রথমে ব্যক্তির শুদ্ধি প্রয়োজন। ব্যক্তিগঠন এর অর্থ হচ্ছে সমাজের একটি অংশের গঠন। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ব্যক্তিগঠনের বিকল্প নেই। তাই ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ব্যক্তিগঠনকে তার প্রথম কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যক্তিগঠন রাষ্ট্র বা সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, যারা ব্যক্তিজীবনে ইসলামের বিধান অনুযায়ী চলতে পারে না,তাদের পক্ষে ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা  করা আদৌ সম্ভব নয়। ব্যক্তিজীবনকে পরিশুদ্ধ না করে নিজে কুপ্রবৃত্তির শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকে শুধু সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের শ্লোগান দেয়া নিতান্ত মূর্খতা ও ভণ্ডামি বৈ কিছু নয়।
কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছে- ‘ হে ঈমানদারগণ, তোমরা যা কর না তা কেন বল? যা কর না তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অপছন্দনীয়। (সূরা সফ, আয়াত:২,৩)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন- তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছেন যে তাদেরকে তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনক্ষমতা দান করবেন। (সূরা নূর, আয়াত: ৫৫)
অতএব পরিপূর্ণ ঈমান ও সনিষ্ঠ আমল ছাড়া ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।
সমাজ সংস্কার করতে হলে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি নিজের মধ্যে সমাজগঠনের যোগ্যতা সৃষ্টি করতে হবে। এটাও ব্যক্তিগঠনের অন্তর্ভূক্ত।
সুতরাং সুতরাং ছাত্র জমিয়তের প্রথম কর্মসূচি হচ্ছে ব্যক্তিগঠনের মাধ্যমে- (ক) কর্মীদের পরিশুদ্ধ জীবন গঠন ও (খ) প্রতিটি কর্মীকে সমাজগঠনের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলা।

চরিত্র মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। চরিত্রবান একজন সাধারন মানুষ চরিত্রহীন জ্ঞানীর চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আমাদের মহানবী সা. ছিলেন অনুপম চরিত্রের অধিকারী। কুরআনে এই স্বীকৃতি দিয়ে আল্লাহ ঘোষণা করছেন- নিশ্চয়  আপনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী’। (সূরা কালাম, আয়াত: ৫)
একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, কালজয়ী ধর্ম ইসলাম তরবারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। বরং এর পিছনে প্রধান নিয়ামক শক্তি ছিল মুসলমানদের উত্তম চরিত্র। মক্কা বিজয়ের পূর্বে দীর্ঘ ২১ বছর রাসূল ও তাঁর সাহাবিরা কুরাইশদের হাতে নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। কিন্তু মক্কাবিজয়ের পর মহানবী সা. তার অনুপম চরিত্রের মহানুভবতা প্রকাশ করেন। অত্যাচারের প্রতিশোধ না নিয়ে কুরাইশদের উদ্দেশ্যে উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন- আজকের দিনে তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। তোমরা আজ মুক্ত।
সেদিন রাসুল সা. কুরাইশদের ক্ষমা করে দিয়ে তাঁর উত্তম চরিত্রের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের পথে বিজয়ের পথে শক্তি যোগাবে। এজন্যে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করবেন, তাদের চরিত্র উন্নত ও পবিত্র হওয়া দরকার। তাই ছাত্র জমিয়ত উত্তম চরিত্র গঠনকে তার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মানুষ সমাজের অংশ। সমাজ সংস্কারের দায়িত্ব মানুষের। সমাজ গঠন করতে হলে মানুষকে সমাজের কাছাকাছি অবস্থান করতে হবে। সমাজের সদস্যদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন মানুষের সেবা করা। মানুষের পাশে থাকা। ইসলামে সমাজ সেবার গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবী সা. সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজসেবক ছিলেন। কুরআন ও হাদিসের অনেক স্থানে মানুষের সেবা করার নির্দেশ এসেছে।
হাদীসে বর্ণিত আছে  ‘মানুষের মধ্যে যিনি মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী, তিনি তাদের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়’। (তাবরানী)
অন্য হাদীসে এসেছে-   তুমি জমীনবাসীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে  আকাশের অধিপতি আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করবেন’। (তিরমিযী)
সুতরাং সমাজ সংস্কারক হতে হলে প্রথমে সমাজসেবক হিসেবে নিজেকে সমাজের তরে উৎসর্গ করে দিতে হবে। এজন্যে ছাত্র জমিয়ত খেদমতে খালক বা সমাজসেবাকে তার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া কোন মতবাদ বা আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন নজির পৃথিবীতে নেই। যেকোনো আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিশেষত ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। কেননা ইসলামী জীবন ব্যবস্থাটাই সামষ্টিক জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
হাদীস শরীফে এসেছে-
আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি- এক. তোমরা সংঘবদ্ধ  জীবন যাপন করবে, দুই. নেতার আদেশ মনোযোগ দিয়ে শুনবে, তিন. নেতার আনুগত্য করবে, চার. হিজরত করবে,  পাঁচ. আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। (তিরমিযী)
অতএব ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে অবশ্যই সংঘবদ্ধ হতে হবে এবং নেতৃত্বের স্বতঃস্ফূর্ত আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মিলিত জীবনের নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।

দাওয়াত ইলাল্লাহ বা আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকা- এটা উম্মতে মুহাম্মাদির অন্যতম দায়িত্ব। এটা সকল নবী রাসূলেরও কাজ ছিল। দাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। দাওয়াত ছাড়া কোন আদর্শ প্রতিষ্ঠা হয় না। দাওয়াত ছাড়া কোন মতবাদ টিকিয়ে রাখা যায় না। কোরআন ও হাদিসে দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অনেক নির্দেশনা এসেছে। আল্লাহ বলেন-   তুমি হেকমত ও প্রজ্ঞার সাথে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকো’। (সূরা নাহল, আয়াত: ১২৫)
অন্যত্র  আল্লাহ বলেন-   বলে দিন হে মুহাম্মদ, এটা আল্লাহর পথ।  মানব জাতিকে আল্লাহর দিকে আহবান করাই আমার একমাত্র কাজ। আমি এবং আমার অনুসারীরা যুক্তি প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত’।  (সূরা ইউসুফ,  আয়াত ১০৮)
নবী সা. ইরশাদ করেন- ‘ভালো কাজের দাওয়াতকারী ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পায়’। (তিরমিযী)
এজন্যে ছাত্র জমিয়ত দাওয়াত ইলাল্লাহকেও তার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সংগঠন সংবাদ

এডমিন
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের ২৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল বাদ জুমা জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক আরোচনা সভা …