প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

এক. আল্লাহর বিধান
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষের খালিক মালিক সবকিছুই। মানুষের ভরণপোষণ, লালন-পালন, জীবন-মরণ সবকিছুর জিম্মাদার তিনি। মানুষের ইহ-পরকালীন শান্তি-সমৃদ্ধি, করণীয়-বর্জনীয়, আইন-কানুন, বিধি-বিধান তার হাতেই।  আল্লাহ বলছেন- আল্লাহ ছাড়া বিধান দেবার  ক্ষমতা কারো নেই। ( সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪০)
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে- রাজত্বে তার অংশীদার কেউ নেই। ( সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ১১১)
আল্লাহ মানুষের স্রষ্টা।  মানুষের জন্য কোন আইন ভালো হবে, কোন বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে- এটা তিনিই ভালো জানেন। মানুষের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান তিনি দিয়েছেন। আল্লাহপ্রদত্ত এসব বিধান জীবনের পরতে পরতে যথাযথ বাস্তবায়ন করা মানুষের জন্য ফরজ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও  সামাজিক জীবনে যেভাবে ইসলামের আদেশ-নিষেধ, হুকুম-আহকাম পালন করা ফরজ, তেমনি রাষ্ট্রীয়ভাবেও ইসলামকে পরিপূর্ণ অনুসরণ করা ফরজ। মুসলমান মাত্রই এই চেষ্টা করতে হবে-  ব্যক্তি থেকে নিয়ে রাষ্ট্রের সকল বিষয়ের সকল আইন আল্লাহর বিধান অনুযায়ী যেনো পরিচালিত হয়। আর এটাই হচ্ছে ইসলামী রাজনীতির মূল কথা। এ থেকে ইসলামী রাজনীতির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আবশ্যকীয়তা প্রতীয়মান হয়।

দুই. ইসলামের সার্বজনীনতা
ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন মতবাদ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মহান আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করছেন- ‘নিশ্চয় ধর্ম হিসাবে আল্লাহর কাছে ইসলামই গ্রহণযোগ্য।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯)

আল্লাহর মনোনীত এই ধর্ম মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইংরেজিতে বলা হয় islam is a complete code of life। মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান ইসলামে আছে। মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার যথার্থ সমাধান ইসলাম দিয়েছে। সকল বিষয়ে ইসলাম প্রদত্ত সকল সমাধান মেনে নিয়ে শরীয়াহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার নাম ঈমান। প্রকৃত মুমিন তারাই, যারা সর্বক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলামকে অনুসরণ করে।
পরিপূর্ণরূপে সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে মানার কঠোর নির্দেশ কুরআনে কারীমেও এসেছে। আল্লাহ বলেন- হে ঈমানদারগণ তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। (সূরা বাকারা, আয়াত: ২০৮)
তাই প্রকৃত মুমিন হতে হলে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রেই ইসলামকে মানতে হবে। তা না হলে সত্যিকারের মুমিন হওয়া সম্ভব নয়।

তিন. মানুষের দায়িত্ব ও খিলাফাহ
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার খলিফা হিসেবে। পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব মানুষের। প্রথম মানুষ আদমকে সৃষ্টির প্রাক্কালে আল্লাহ বলেছিলেন-  নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে আমার খলীফা তথা প্রতিনিধি পাঠাবো।(বাকারা-৩০)
এ প্রতিনিধিত্ব খেলাফতের। আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার নাম খিলাফাহ। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের নাম খিলাফাহ। পৃথিবী চলবে আল্লাহর আইনে, মানুষের তৈরি আইনে নয়- এই মহাসত্যের নাম খিলাফাহ।
জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়িত করতে হলে, পরিপূর্ণ মুমিন হতে হলে, খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিতে হলে ইসলামী রাজনীতি করতে হবে।
জমিয়ত
সঠিক ধারার ইসলামী রাজনীতি চর্চার লক্ষ্যে ১৯২৯ সালে পাক-ভারত উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নেতৃত্বে গঠিত হয় জমিয়ত।  প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর ধরে এ দল ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্র জমিয়ত
আল্লাহ বিধান প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজন একদল প্রশিক্ষিত, যোগ্য-দক্ষ ও জানবাজ কর্মী। অনভিজ্ঞ, অদক্ষ এবং অযোগ্যদের দ্বারা ইসলামী আইন বাস্তবায়নের মত গুরুদায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। তা’লীম-তারবিয়াতের মাধ্যমে একদল দক্ষ ও ত্যাগী কর্মী গঠন করা একান্ত জরুরি। এ লক্ষ্যেই জমিয়তের মুরব্বিরা ১৯৯২ সালের ২৪ জানুয়ারি ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ নামে একটি প্রশিক্ষণ কাফেলা গঠন করেন। ছাত্র জমিয়তের মূল কর্মসূচী হচ্ছে সঠিক তত্ত্বাবধান  ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জন্য একদল দক্ষ কর্মী বাহিনী গঠন করা।

আমাদের আহবান
ছাত্ররা জাতির ভবিষ্যৎ। তারা দেশের আগামীর নেতৃত্ব দেবে। সকল অর্জন, আন্দোলন আর সংগ্রামের পিছনে ছাত্রদের অবদান অপরিসীম। তাই মানব রচিত জীবন ব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়ে কুরআনের শাসন কায়েম করতে হলে ছাত্রদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ এদেশের আপামর ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ  প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে চায়। প্রতিটি ছাত্রকে দ্বীন কায়েমের একেকজন  আত্মোৎসর্গী সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সব ধরনের যোগ্যতার অধিকারী, নৈতিক ও আত্মিক বলে বলিয়ান প্রজন্ম তৈরি করে একটি সুন্দর, আধুনিক, সুখী, সমৃদ্ধ- কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত বাংলাদেশ গঠন করতে চায়। আপনিও আসুন ছাত্র জমিয়তের ছায়াতলে।  শামিল হন বিপ্লবের এই কাফেলায়। আল্লাহর বিধান কায়েমের সংগ্রামে আপনিও আমাদের সহযোগী হোন। আসুন, আমরা সবাই মিলে ঘুনেধরা সমাজব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোয় আলোকিত একটি সুখী সমৃদ্ধ ও আদর্শ বাংলাদেশ গড়ি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।